ফেসবুক আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ

0
45

মূলত আমি ফোকাস করব ফেসবুকের ভাল দিক গুলো। আমার ব্যক্তিগত লাইফের কিছু কথা শেয়ার করি, প্রথম যখন আমি ফেসবুক চালানো শুরু করি তখন ২০১৩ সাল মানে এইতো কিছু দিন আগের কথা। প্রথমে শুধু মেয়ে বন্ধুদের সাথে চ্যাটই করতাম। এরপর স্টাটাস আপডেট করা শুরু করলাম। শুরুতে অনেক বানান ভূল হত। এজন্য অনেকেই অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করত। তারপর গুগল করে বাংলা বানানরীতি মোটামুটি শিখে নিলাম। এভাবে ফেসবুক থেকে একসময় চলে গেলাম ব্লগে। একটি লেখা দুইটি লেখা এই ব্লগ সেই ব্লগ করতে করতে মনের অজান্তেই হয়ে গেলাম ব্লগার। বাংলা ব্লগ থেকে চললাম ইংরেজি ব্লগের দিকে। কারণ বাংলা ব্লগে রিসোর্স খুবই কম ছিল তখন তাই ব্লগ লিখার নানান আইডিয়া নেয়ার জন্য ইংরেজি ব্লগের দারস্থ হতে হত। প্রথম দিকে ইংরেজি লেখা বা ন্যাটিভ স্পিকারদের ভিডিও ব্লগের কথাবার্তা তেমন বুঝতাম না। এরপর প্রয়োজনের তাগিদে ইউটিউব থেকে করে নিলাম কিছু ইংরেজি শেখার কোর্স।

আমার লাইফে দুইটা সরকারী কোর্স করেছি প্রযুক্তি রিলেটেড। কোর্স দুইটাই ফ্রি ছিল। একটা ছিল গ্রাফিক ডিজাইন আর অন্যটি ছিল ওয়েব ডিজাইন। তবে কথা হল এই দুইটা কোর্সের খবরই দিয়েছে ফেসবুক। আবার আমার লাইফের প্রথম যে জব অফার পেয়েছি সেটাও এই ফেসবুকেই। তাহলে যদি হিসেব কষা যায় তবে দেখতে পাবেন ফেসবুক আমাকে বাংলা বানান শিখিয়েছে, ইংরেজি শিখিয়েছে, ব্লগার বানিয়েছে, দুইটা এক্সপেনসিভ কোর্স ফ্রিতে দিয়েছে এবং এমনকি জব  পর্যন্ত দিয়েছে। আমি ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট যত বিষয়ে জানি তার শুরুটা আসলে হয়েছে এই ফেসবুক থেকেই।

ফেসবুকের ভাল দিক

সে অনেক দিন আগের কথা আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। স্কুলে কড়া-কড়ি নিয়ম, ফোন নিয়ে স্কুলে প্রবেশ নিষেধ । আমরা বন্ধু-বান্ধবরা খেলার মাঠে, ক্লাসে কিংবা প্রাইভেটে আড্ডা করে বিনোদন নিতাম। কালের বিবর্তনে পেছনে পড়ে গেছে সময়গুলো। এস.এস.সি পরীক্ষার পর সবাই এলো-মেলো হয়ে গেলাম। শিক্ষার জন্য একেক জন বেছে নিয়েছে একেক প্রতিষ্ঠান। আর কারো সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ হয় না। মাঝে কেটে গেছে আরো কয়েকটা বছর।

আগেও সেই স্কুল লাইফের মত বন্ধু আছে। বরং সে সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বন্ধু আছে। কিন্তু বন্ধুর আগে একটা নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে, সেটা হল ভার্চুয়াল । আগে স্কুলে কিংবা প্রাইভেটে না গেলে দেখা-সাক্ষাত হত না। কিন্তু এখন কেবির বিনিময়ে ইন্টারনের বদৌলতে হাতেই মুঠোই সেই বন্ধুরা। আমার হাতের স্মার্ট ফোনটি যেখানে আমার বন্ধুও সেখানে। আজব ব্যাপার, মনে হয় আমার ফোনটিই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। রাতে বিছানায় শুয়ে চলে সেই গসিপিং যা করতাম স্কুলের সেই খেলার মাঠে। সেই স্কুল লাইফে যখন কোনো পড়ার বিষয়ে প্রবলেম ফেস করতাম তখন ছুটে যেতাম বন্ধুর বাড়িতে। আর এখন যে যার বাড়িতে পড়ার টেবিলে বসে থেকেই চলে গ্রুপ স্টাডি। এই কিছুদিন আগেও কোনো নোটিসের জন্য ছুটে যেতে হত ভার্সিটি ক্যাম্পাসে। কিন্তু এখন ভার্চুয়াল ওয়াল্ডে সবই হাতের মুঠোই।

যার সাথে আগে পাশাপাশি বসে গল্প করতাম, সে এখন কয়েকশত মাইল দূরে থাকে। এখন দুজনের মাঝে দুরুত্ব বাড়লেও প্রভাব পড়ে নি সেই গল্পের ওপর। মনে হয় পাশাপাশিই আছি কিন্তু তার আগে অজান্তেই ভার্চুয়াল শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে। ফেসবুকের মাত্র কয়েকটা পজেটিভ দিক উল্লেখ করলাম এছাড়াও আরো অনেক আছে। তার মানে কেউ এই ভেবে বসবেন না যে এর কোনো খারাপ দিক নেই। হ্যাঁ আমার কাছে এর খারাপ দিকটার তেমন প্রভাব নেই, যদিও ফেসবুক আমার কাছে মাদকের মতই মনে হয়।

বিঃদ্রঃ একটি অস্ত্র দিয়ে যেমন সন্ত্রাস করা যায়, তেমনি ঐ একই অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীকেও দমন করা যায়।

কাজেই ফেসবুক কেমন সেটা নির্ভর করবে আপনার রুচিবোধ ও ব্যবহারের উপর। আপনি ব্যক্তি যেমন আপনের ফেসবুকে অ্যাক্টিভিটিও হবে তেমন। ফেইসবুক বয়ে নিয়ে এসেছে গতিময়তা দুরে ঠেলে দিয়ে আপনজনদের। তাই বলতেই হচ্ছে দুরুত্ব যতই হোক কাছে আছি। চাইলে আপনি এই পোস্ট শেয়ার করে বন্ধুদের জানিয়ে দিতে পারেন যাতে করে তারাও ফেসবুকের পজেটিভ ব্যবহারটা করে। হ্যাপি ফেসবুকিং…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here